জৈন্তাপুরের ইউএনও পদে রদবদল, দায়িত্বে আসছেন আবুল হাসনাত খাঁন
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান ইউএনও সুনন্দা রায়কে বদলি করে তাঁর স্থলে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁনকে পদায়ন করা হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
দায়িত্ব পালনের কয়েক মাসের মধ্যেই আলোচনায় আসেন সুনন্দা রায়। গত ১৪ মে তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এর মধ্যে গত ১০ জুলাই প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ করে দেওয়া প্রায় দুই মিনিটের বক্তব্যে ৬০ বার স্যার সম্বোধন করার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এ ঘটনা সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
জৈন্তাপুরে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ বণ্টন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা ও অভিযোগ সামনে আসে। বরাদ্দ বণ্টনে আর্থিক লেনদেন এবং উপজেলার বিভিন্ন বালুঘাট থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মচারীর নাম জড়ানোর কথাও আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেবের বদলি এবং পরবর্তী সময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরুল ইসলামের স্বেচ্ছায় বদলি নেওয়ার বিষয়টিও স্থানীয় মহলে আলোচিত হয়।
ফুটপাত ও ভ্যানে ফল বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফল জব্দ করে বিভিন্ন মাদ্রাসায় বিতরণের ঘটনাও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয় বলে জানা গেছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য ছাড়া অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যথাযথ হবে না।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন গত ১৮ অক্টোবর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যোগদান করেন। পরে ২৫ অক্টোবর তাঁকে ওই কার্যালয় থেকে অবমুক্ত করে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। প্রজ্ঞাপনে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন ইউএনওর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হতে যাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন প্রশাসনের অধীনে সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।