বিদেশ পালানোর চেষ্টা ঠেকাতে ইমিগ্রেশনে চিঠি শাহপরাণ থানার
সিলেটের শাহপরাণ থানা এলাকায় দায়ের হওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামির বিদেশ গমন ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ পুলিশ সুপার ইমিগ্রেশন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশ পুলিশ বরাবর এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) শাহপরাণ থানার দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায় যে আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির দেশত্যাগ রোধ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী শাহপরাণ থানার মামলা নম্বর ১৯/৯৫, তারিখ ২০ এপ্রিল ২০২৬, ধারা ৩২৩/১১ পেনাল কোড এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই আসামি শাহপরাণ থানাধীন কেওয়া, আটগাঁও, পীরের বাজার এলাকার মৃত আব্দুস শহিদের ছেলে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে চলছেন। গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পেরেছে যে তিনি একজন প্রবাস ফেরত ব্যক্তি এবং তার পাসপোর্টে বিদেশি ভিসা সংযুক্ত রয়েছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে তিনি দেশ ত্যাগের চেষ্টা করতে পারেন বলে জোরালো আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে আসামির বিদেশ গমনাগমন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে আবেদনটি পাঠিয়েছেন শাহপরাণ থানার এসআই নিরস্ত্র জুয়েল চৌধুরী। আবেদনের সাথে মামলার এফআইআরের অনুলিপি ও আসামির পাসপোর্টের অনুলিপি সংযুক্ত করা হয়েছে যার পাসপোর্ট নম্বর এ১৯৪৬৬১৯২ বলে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সাথে অগ্রবর্তী করেন শাহপরাণ থানার অফিসার ইনচার্জ। সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও মজলুমের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পুলিশের এই তৎপরতা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। মূলত অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে পুলিশ প্রশাসনের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা কেবল অপরাধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা নয় বরং এটি সাধারণ মানুষের মনে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করে।