অপরাজিত থাকার নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন
যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সোমবার ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে ফুটবলের এক ঐতিহাসিক মহাকাব্যের সাক্ষী হলো বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন যেখানে ফাইনালের মহোৎসবে আর্জেন্টিনাকে পরাস্ত করে সোনালী ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে স্প্যানিশরা। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা কেবল বিশ্বজয়ের মুকুটই মাথায় পরেনি বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় কীর্তি স্থাপন করেছে। ইতালি ফুটবল দলের টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পূর্ববর্তী রেকর্ডটি পেছনে ফেলে লা রোহারা এখন বিশ্ব ফুটবলের একক সিংহাসনে আরোহণ করেছে যা ফুটবল ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করল।
এবারের আসরে স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল চীনের প্রাচীরের মতো অজেয় যার প্রমাণ মেলে পুরো টুর্নামেন্টে তাদের মাত্র একটি গোল হজমের অভাবনীয় পরিসংখ্যানে। বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় সাতটি ম্যাচে কোনো গোল না খেয়ে মাঠ ছাড়ার এই অনন্য নজির স্প্যানিশদের ফুটবল ইতিহাসে অমর করে রাখবে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে দুই পরাশক্তি কোনো গোল করতে না পারায় ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় এবং সেখানে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের চোখ ধাঁধানো জয়সূচক গোলটি স্পেনকে এনে দেয় পরম আরাধ্য সেই ঐতিহাসিক জয়। এর আগে ম্যাচের ৯৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার তারকা মিডফিল্ডার এনসো ফের্নান্দেস দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে মাঠ ছাড়লে আলবিসেলেস্তেরা ১০ জনের দলে পরিণত হয় যা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে।
স্পেনের এই অবিশ্বাস্য বিজয়রথ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে হারের পর থেকে যার পর তারা আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে নির্ধারিত বা অতিরিক্ত সময়ে হারের মুখ দেখেনি। উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে টাইব্রেকারে একটি পরাজয় থাকলেও ফুটবলের আনুষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী তা ড্র হিসেবে গণ্য হওয়ায় তাদের এই রেকর্ড অক্ষুণ্ণ থাকে। ইউরোপসেরার মুকুট জয়ের পর এবার বিশ্বসেরার ট্রফি নিজেদের করে নিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এবং তাদের বর্তমান সোনালী প্রজন্ম বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।