নেপথ্য নায়কদের গ্লাভসযুদ্ধে নির্ধারণ হবে বিশ্বসেরার মুকুট
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠজুড়ে দর্শকরা একের পর এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের পাওয়ারহাউস স্পেন এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। রবিবার (১৯ জুলাই) ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি চোখ যখন স্পেনের তরুণ তুড়ি লামিনে ইয়ামাল কিংবা আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসির দিকে নিবদ্ধ ঠিক তখনই শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণে নেপথ্য কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছেন দুই দলের অতন্দ্র প্রহরী উনাই সিমন এবং এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। আক্রমণভাগের তারকাদের আলো কাড়ার প্রথাগত অভ্যাসের বাইরে গিয়ে এবারের ফাইনালের মূল পার্থক্য গড়ে দিতে পারে দুই গোলরক্ষকের এই স্নায়ুযুদ্ধ।
স্প্যানিশ রক্ষণভাগের শেষ দেয়াল উনাই সিমন পুরো টুর্নামেন্টেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে আলো কেড়েছেন। স্পেনের ফাইনালে ওঠার পেছনে তার ধারাবাহিকতা ছিল দেখার মতো যার ফলে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে তার হাতেই টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাত্র একটি গোল হজম করা ছাড়া সিমন গ্রুপ পর্বে এবং নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে অসাধারণ কিছু সেভ করে দলকে রক্ষা করেছেন। টুর্নামেন্ট জুড়ে তার গড় পারফরম্যান্স রেটিং ছিল সাত দশমিক শূন্য চার এবং এখন পর্যন্ত তিনি মোট দশটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করে স্পেনের রক্ষণভাগকে এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করেছেন।
অপরদিকে আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে বরাবরের মতোই বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে প্রতিটি ম্যাচে মূল একাদশে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। গ্রুপ পর্বে কেবল জর্ডানের বিপক্ষে একটি গোল হজম করলেও নকআউটের পথটা তার জন্য বেশ কঠিন ছিল যেখানে তাকে ছয়বার পরাস্ত হতে হয়েছে। তবে টুর্নামেন্টে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করা মার্টিনেজের পারফরম্যান্স রেটিং কিছুটা কম হলেও কঠিন পরিস্থিতি থেকে দলকে অবিশ্বাস্যভাবে টেনে তোলার ক্ষেত্রে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনাকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখছে। ফাইনালে আলবিসেলেস্তেদের শিরোপা ধরে রাখতে হলে স্পেনের ক্ষুরধার আক্রমণভাগকে রুখতে মার্টিনেজকে তার ক্যারিয়ারের সেরা ফর্ম প্রদর্শন করতে হবে। ফুটবলের এই ঐতিহাসিক ফাইনালে মেসি কিংবা ইয়ামালরা যতই আলো ছড়ান না কেন শেষ পর্যন্ত সিমন ও মার্টিনেজের গ্লাভসের ওপরই নির্ভর করছে কার মাথায় উঠবে বিশ্বজয়ের রাজমুকুট।