পৌরসভা গঠনের ঐতিহাসিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সিলেটের জৈন্তাপুরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে
সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে জৈন্তাপুর উপজেলাকে পৌরসভায় রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক অভিপ্রায় ব্যক্ত করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। গত ১৪ জুলাই মঙ্গলবার বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত संख्याয় স্থানীয় সরকার বিভাগের এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জনসমক্ষে আসে যা এই অঞ্চলের উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন ২০০৯ অনুযায়ী উপজেলার দুটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ১২টি মৌজাকে শহর এলাকা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক এই যুগান্তকারী অগ্রগতির পেছনে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী আরিফুর হক চৌধুরী। সিলেট ৪ আসনের এই দূরদর্শী সংসদ সদস্য গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ আধা সরকারি পত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জৈন্তাপুরকে পৌরসভায় রূপান্তরের যৌক্তিকতা ও জনদাবি তুলে ধরে জোর সুপারিশ পেশ করেন। তাঁরই ফলপ্রসূ উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমুখী ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেয়। পরবর্তীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সদয় আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহার পিএইচডি স্বাক্ষরিত এই বিশেষ প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়।
প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন এই পৌরসভার সীমানায় উপজেলার দুটি ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়নের সমপরিমাণ অংশ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের আওতাধীন ডিবি হাওর, ঘিলাতৈল, গৌরিশংকর, মূল নিজপাট, পূর্ব লক্ষীপ্রসাদ ও গুয়াবাড়ী মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সাথে ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের সীমানায় থাকা কেন্দ্রী হাওড়, মোয়াখাই, লামনীগ্রাম, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর এবং ভিত্রিখেল মৌজাকে নতুন শহর এলাকার মানচিত্রে স্থান দেওয়া হয়েছে যা এই এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করবে।
আইনি সুনির্দিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করে গেজেট প্রকাশের পর পরবর্তী কার্যক্রমও অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের দিন থেকে অনূর্ধ্ব এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো বিষয়ে তাদের লিখিত পর্যবেক্ষণ বা মতামত সরকারের কাছে পেশ করার সুযোগ পাবেন। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়া মেনে সরকার আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রাপ্ত মতামতসমূহ অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে নিষ্পত্তি করবে। সকল আইনি প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে জৈন্তাপুর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি আদেশ পৌরসভা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।