সিলেটে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি ও থানায় জিডি
সিলেটের শাহপরাণ থানা এলাকায় দায়ের হওয়া একটি মামলার জেরে বাদী ও তার ছোট ভাইকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে শাহপরাণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে যার নম্বর ১৫১২ এবং ট্র্যাকিং নম্বর এম০৬৭৮কে। সোমবার (২৫ মে) থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সাধারণ ডায়েরির বিবরণ থেকে জানা যায় যে জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের পশ্চিম ঠাকুরেরমাটি গ্রামের বাসিন্দা ইমরান আহমদ গত ২০ এপ্রিল শাহপরাণ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন যার নম্বর ১৯/৯৫। এই মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত শাহীন, মিজান, শরীফসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ব্যক্তি ইমরান আহমদকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সুরমাগেইট বাইপাস পয়েন্ট এলাকায় ইমরান আহমদ ও তার ছোট ভাই তোফাজ্জল হোসেনকে পেয়ে অভিযুক্তরা তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। সেই সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহার না করলে দুই ভাইকে হত্যা করে লাশ গুম করার ভয়াবহ হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে গত ২৫ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে পীরের বাজার তৈল পাম্প এলাকায় যাওয়ার পথে পুনরায় অভিযুক্তরা তাদের গতিরোধের চেষ্টা করে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তখন তারা অত্যন্ত উগ্র আচরণ করে এবং দুই ভাইয়ের মারাত্মক ক্ষতি করার হুমকি প্রদর্শন করে। অভিযুক্তদের এমন ধারাবাহিক হুমকি ও ভয়ভীতির কারণে ইমরান আহমদ ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে অবহিত করা হলে শাহপরাণ থানার ডিউটি অফিসার মোহাম্মদ উজ্জল মিয়া সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস আহমেদ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মূলত সমাজে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক তৎপরতা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। অপরাধীদের অন্যায় চাপের মুখে ন্যায়বিচারের পথ যেন রুদ্ধ না হয় এবং প্রতিটি নাগরিক যেন নিরাপদে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন তা নিশ্চিত করাই এই আইনি পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য যা জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।