বিজিবির অভিযানের পর জৈন্তাপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, প্রশাসনের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত
সিলেটের জৈন্তাপুরে সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর একটি অভিযানের পর স্থানীয় শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে উপজেলার শ্রীপুর খড়মপুর এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস দল অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর পরিবহনকারী চারটি ট্রাক আটক করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে যে শ্রীপুর সীমান্ত ফাঁড়ির একটি টহল দল খড়মপুর এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে পাথর বোঝাই ওই ট্রাকগুলো জব্দ করে। বিজিবি সদস্যরা যখন ট্রাকগুলো নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসছিলেন তখন উত্তেজিত শ্রমিকরা বাধা সৃষ্টি করে এবং তিনটি ট্রাক গুচ্ছগ্রাম এলাকায় নিয়ে গিয়ে পাথর খালাস করে ফেলে। তবে একটি ট্রাক বিজিবি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার জের ধরে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সিলেট থেকে তামাবিলগামী মহাসড়কটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এর ফলে রাস্তার দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে জাফলং অভিমুখে রওনা হওয়া বিপুল সংখ্যক পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘ সময় চরম ভোগান্তির শিকার হন।
আন্দোলনকারী শ্রমিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে ট্রাক আটকের সময় মাঠ পর্যায়ের বিজিবি সদস্যরা এক শ্রমিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করেন। তবে বিজিবির ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক এই অভিযোগটি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে সরকারি কর্তব্য পালনে বাধা দিয়ে যখন পাথর পাচার চক্রের কিছু সদস্য বিজিবি সদস্যদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে তখন আত্মরক্ষা এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শর্টগানের এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কারণে কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে জৈন্তাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে একটি ফলপ্রসূ জরুরি বৈঠকে বসেন। প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা শ্রমিক প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন যে সব পক্ষের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য উপজেলা প্রশাসন সব সময় উন্মুক্ত রয়েছে। তবে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে আইন পরিপন্থী কোনো বিষয়কে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ প্রশাসনের নেই এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কর্মসূচি থেকে সবার বিরত থাকা উচিত।
প্রশাসনের এই ইতিবাচক আশ্বাসের পর শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর সিলেট তামাবিল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল আবার স্বাভাবিক রূপ ফিরে পায়। এর পরপরই সহকারী কমিশনার ভূমি পলি রানী দেবের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয় এবং আইনি বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে জব্দকৃত ট্রাকটিকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এবং তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের উপ পরিদর্শক নাজমুল হক সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।