জৈন্তাপুরে ভাইরাল ভিডিও বিতর্কে তদন্ত কমিটি গঠন, সব অভিযোগ অস্বীকার চেয়ারম্যানের
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংবেদনশীল ভিডিওর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। জেলা প্রশাসকের বিশেষ নির্দেশনার আলোকে পুরো ঘটনার সত্যতা এবং নিরপেক্ষতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ও কমিটির বিবরণ প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে এই কথিত ভিডিওটির প্রকাশকারী হিসেবে পরিচিত ফয়জুল ইসলাম নামক এক ব্যক্তি নতুন করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে দাবি করেছেন যে তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন এবং ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তার মৌখিক অভিযোগ অনুযায়ী ওই ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রচার করতে তাকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তার স্ত্রীর সাথে চলমান একটি পারিবারিক বিরোধের সালিশি বৈঠকের সূত্র ধরেই মূলত এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে।
তবে শুরু থেকেই এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী বলেন যে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তার ছবি ও অবয়ব বিকৃত করার মাধ্যমে এই রূপ কাল্পনিক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যেই একটি কুচক্রী মহল এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। ফয়জুল ইসলামের নতুন ভিডিও বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে কাউকে হুমকি দেওয়া বা কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি করার প্রশ্নই আসে না এবং যেহেতু বিষয়টি এখন প্রশাসনিকভাবে তদন্তাধীন তাই খুব দ্রুতই প্রকৃত সত্য সবার সামনে উন্মোচিত হবে।
এই স্পর্শকাতর আইনি ও সামাজিক বিষয়ে জৈন্তাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায় সাংবাদিকদের জানান যে জেলা প্রশাসনের আদেশে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুনির্দিষ্ট তথ্য হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো ধরনের চূড়ান্ত মন্তব্য করা কিংবা কাউকে দায়ী করা প্রশাসনিক নীতিমালার পরিপন্থী হবে।
প্রশাসন কর্তৃক গঠিত এই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জৈন্তাপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. অলিউর রহমান। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন যথাক্রমে উপজেলা আইসিটি অফিসার শ্যামল চন্দ্র দাস এবং সিলেট জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. চাঁন মিয়া। এছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া যাচাইয়ের জন্য জৈন্তাপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মো. ওসমান গনি এবং শারীরিক ও ল্যাব পরীক্ষার দিকগুলো পর্যালোচনার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সুজেয় চৌধুরীকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে গত ১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের একটি বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে উপস্থিত একজন ব্যক্তিকে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী বলে প্রচার করা হয়। তবে ভিডিওটির বিশ্বাসযোগ্যতা অথবা সেখানে দৃশ্যমান ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় এখন পর্যন্ত কোনো দায়িত্বশীল সরকারি সংস্থা কিংবা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি এবং পুরো বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে তদন্তাধীন রয়েছে।