চট্টগ্রাম বিভাগে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণিসম্পদ ধ্বংস, ৩০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লোকসানের প্রাক্কলন
টানা আকস্মিক ভারী বর্ষণ উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় খামারি ও প্রাণিসম্পদ খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী বন্যার আগ্রাসী রূপের কারণে বিভাগের পাঁচ জেলায় এক লাখ বারো হাজার আটশত সাতাশটি গবাদিপশু এবং হাঁস মুরগির অকাল মৃত্যু হয়েছে। এতে করে বন্যাদুর্গত এলাকায় বিপুল সংখ্যক বেসরকারি খামার পশুখাদ্যের মজুদ এবং চারণভূমি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে যার ফলে সব মিলিয়ে প্রায় ত্রিশ কোটি পনেরো লাখ টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার ১৩ জুলাই বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রাথমিক ক্ষয়খতির প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয় যে বন্যার পানিতে ডুবে ও বিভিন্ন রোগে মারা যাওয়া প্রাণীদের মধ্যে ছেচল্লিশটি গরু একশত তেইশটি ছাগল চল্লিশটি ভেড়া এক লাখ এগারো হাজার আটানব্বইটি মুরগি এবং এক হাজার পাঁচশত একুশটি হাঁস রয়েছে। কেবল এই বিপুল সংখ্যক পশুপাখির মৃত্যুর কারণেই খামারিদের সরাসরি ক্ষতি হয়েছে প্রায় তিন কোটি আটাত্তর লাখ টাকা। এর বাইরে বিভাগের ছত্রিশটি উপজেলার একশত ছাপান্নটি ইউনিয়নে গবাদিপশুর খাবারের ওপর তীব্র আঘাত এসেছে। বন্যার পানিতে প্রায় আঠারো হাজার চারশত আটষট্টি টন খড় কাঁচা ঘাস ও দানাদার পশুখাদ্য সম্পূর্ণ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই খাতে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পঁচিশ কোটি পঁতাচল্লিশ লাখ টাকা। এছাড়া বন্যায় এই বিভাগের ৩৩টি প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুই হাজার একশত ছাব্বিশ একর চারণভূমি প্লাবিত হয়েছে।
জেলাওয়ারী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে পুরো বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। এই জেলায় পঁয়ত্রিশটি গরু সাতাশিটি ছাগল চল্লিশটি ভেড়া এবং এক লাখেরও বেশি মুরগি মারা গেছে যার ফলে এই একটি জেলাতেই সামগ্রিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে আটাশ কোটি সতেরো লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত জেলা কক্সবাজারে আটটি গরু ও সাত হাজারেরও বেশি মুরগিসহ মোট দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি জেলা বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে যথাক্রমে বারো লাখ এবং প্রায় পনেরো লাখ টাকার সমপরিমাণ প্রাণিসম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে খাগড়াছড়ি জেলায় তুলনামূলক কম ক্ষতি রেকর্ড করা হয়েছে যেখানে মোট আর্থিক লোকসানের পরিমাণ প্রায় উনিশ লাখ পনেরো হাজার টাকা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে তৈরি করা এই ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ানটি মূলত প্রাথমিক। উপদ্রুত এলাকাগুলো থেকে বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর এবং মাঠ পর্যায়ে পুনর্বিশ্লেষণ সম্পন্ন হলে প্রকৃত ক্ষয়খতির এই পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তবে দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক খামারিদের পুনরায় স্বাবলম্বী করে তুলতে এবং দুর্গত এলাকায় জরুরি গবাদিপশুর বিকল্প খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পুনর্বাসন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।