সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন জমা: অন্তর্বর্তী সরকারের ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ
রাষ্ট্রীয় আইনের স্বচ্ছতা ও আইনি কাঠামোকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর ওপর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয় যেখানে ২০টি অধ্যাদেশ বিলুপ্ত বা বাতিলের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে। সংসদীয় এই পর্যালোচনায় সরকারের গৃহীত আইনি পদক্ষেপগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে একটি বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে যা দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
কমিটির দাখিলকৃত প্রতিবেদন অনুযায়ী পর্যালোচিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো প্রকার পরিবর্তন ছাড়াই বর্তমান অবস্থায় বহাল রাখার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশকে জনস্বার্থে আরও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমানে বিলুপ্ত হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পরবর্তীতে এগুলোকে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করবে। আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বাকি ৪টি অধ্যাদেশকে স্থায়ীভাবে বাতিল ও সংরক্ষণের জন্য প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে যা সংসদীয় বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হলেও ২০টি বিশেষ অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির বিরোধী দলীয় সদস্যরা তাদের তীব্র দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নোট অব ডিসেন্ট বা লিখিত আপত্তি প্রদান করেছেন। তাদের আপত্তির তালিকায় অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা ৪টি এবং সংশোধনের জন্য প্রস্তাবিত ২টি অধ্যাদেশ ছাড়াও পুনরায় বিল আকারে আনার তালিকায় থাকা ১১টি অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে স্থায়ীভাবে বাতিলের তালিকায় থাকা ৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির কারণে হাউসে এই প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা এখন বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সংসদীয় কমিটির এই সুপারিশগুলো এখন হাউসে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গৃহীত হবে যা অন্তর্বর্তীকালীন আইনি ব্যবস্থাগুলোকে একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি প্রদান করবে।
প্রকৃতপক্ষে আইন হলো সমাজের দর্পণ আর সংসদ হলো সেই দর্পণকে স্বচ্ছ রাখার প্রধানতম স্থান। জনস্বার্থে নেওয়া যে কোনো সিদ্ধান্ত যখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হয় তখন তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে আরও শক্তিশালী করে। আমরা বিশ্বাস করি আইন প্রণয়নের এই মহতী কর্মযজ্ঞে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছাপিয়ে দেশ ও দশের মঙ্গলই জয়ী হবে। কারণ একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে নির্ভুল ও বৈষম্যহীন আইনের বিকল্প নেই এবং আজকের এই সংসদীয় পদক্ষেপ সেই আগামীর পথকেই প্রশস্ত করবে।