সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন যে নির্দিষ্ট বিষয়ে জনগণের স্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল তা উপেক্ষা করে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের পথে হাঁটছে। রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার ৪ এপ্রিল এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। মাওলানা মামুনুল হক মনে করেন বর্তমানে সংবিধানের দোহাই দিয়ে যে ধরণের সংশোধনী আনার প্রক্রিয়া চলছে তা ভবিষ্যতে আরও কঠোর শাসনব্যবস্থার পথ সুগম করতে পারে। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন অতীতেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সংবিধানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা করেছিল।
সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের সঞ্চালনায় এই সভায় বিগত সরকারের সময়কার বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিল বা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে শুরুতে জনকল্যাণমূলক অনেক উদ্যোগের সমর্থন থাকলেও এখন রাজনৈতিক স্বার্থে সেগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে যা জনগণের আস্থার সঙ্গে এক ধরণের বিশ্বাসভঙ্গ। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং গণভোটের মর্যাদা রক্ষায় আগামী ১০ এপ্রিল শুক্রবার দেশজুড়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। একই দাবিতে আগামী ২৪ এপ্রিল রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল এক গণসমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। বৈঠকে মাওলানা ইউসুফ আশরাফ এবং মাওলানা রেজাউল করীম জালালীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তৃণমূল পর্যায়ে এই কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সভায় দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের চিত্র ফুটে ওঠে। বিশেষ করে বর্তমান বাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র অভাব এবং শিশুদের জন্য অত্যন্ত জরুরি টিকার সংকট নিয়ে নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা মনে করেন এসব জীবনমরণ সমস্যার সমাধানে সরকারের দীর্ঘসূত্রতা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন দেশীয় ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মেনে নেবে না। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলার নিন্দা জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনার দাবি তোলা হয়। সভার শেষ পর্যায়ে গত ২৬ মার্চ কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমদের পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।
মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইনসাফ কায়েমের এই লড়াই কেবল একটি দলের নয় বরং এটি পুরো জাতির অস্তিত্বের সংগ্রাম। যখন একটি সুন্দর আগামীর স্বপ্নে পুরো দেশ ঐক্যবদ্ধ তখন গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানানোই হোক রাজনীতির মূল লক্ষ্য। শোকাতুর পরিবারের চোখের জল মোছানো থেকে শুরু করে প্রতিটি শিশুর নিরাপদ স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার। ভালোবাসার এই বাংলাদেশে একে অপরের হাত ধরে আমরা এমন এক সমাজ গড়ে তুলি যেখানে ক্ষমতার দম্ভ নয় বরং মানবিকতা এবং ন্যায়বিচারই হবে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই পারে অন্ধকার কাটিয়ে ভোরের সোনালী আলো নিয়ে আসতে।