গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে নিহতের তালিকায় আরও এক সংবাদকর্মী ও পেশাদারিত্বের চরম মূল্য
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ভয়াবহতায় প্রাণ হারানো গণমাধ্যমকর্মীদের সংখ্যা বেড়ে এখন ২৬২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। যুদ্ধের শুরু থেকে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করা সাংবাদিকদের এই দীর্ঘ মিছিলে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছেন কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ। বুধবার ৮ এপ্রিল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয় যে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলায় এই নির্ভীক সংবাদকর্মীর মৃত্যু হয়েছে যা পুরো বিশ্বের সাংবাদিক সমাজকে শোকাহত করেছে। গাজা মিডিয়া অফিস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে যে মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং গুপ্তহত্যার মতো নৃশংস পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সম্মুখ সমরে থাকা সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইন থাকলেও এই অঞ্চলে তার চরম লঙ্ঘন ঘটছে। এই জঘন্য অপরাধ সংঘটনের জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবং তাদের বিভিন্নভাবে মদদ দেওয়া পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশগুলোকে দায়ী করে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। বিশেষ করে সংবাদ সংগ্রহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী যে দায়বদ্ধতা রয়েছে তা গাজার ক্ষেত্রে ক্রমাগত উপেক্ষিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। প্রতিটি সাংবাদিকের মৃত্যু কেবল একটি জীবনের অবসান নয় বরং এটি সত্য প্রচারের পথে এক একটি বিশাল প্রতিবন্ধকতা যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার পথকে আরও সংকুচিত করে দিচ্ছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় প্রতিনিয়ত যেখানে ধ্বংসস্তূপ আর মৃত্যুর আহাজারি বাড়ছে সেখানে কলম আর ক্যামেরা হাতে নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা এই সংবাদকর্মীরা মূলত মানবতার কথা বলছেন। ধ্বংসলীলার মাঝে দাঁড়িয়ে যারা নির্ভয়ে সত্য প্রকাশে অটল ছিলেন তাদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসের পাতায় এক বেদনাতুর অধ্যায় হয়ে থাকবে। দিনশেষে বোমার শব্দ ছাপিয়ে যেন সেই সব বীর কলমযোদ্ধাদের রেখে যাওয়া সত্যই জয়ী হয় এবং শান্তির এক নতুন ভোরে যেখানে সংবাদকর্মীদের আর বুলেটের মুখোমুখি হতে হবে না এটাই বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা। স্বজন হারানো শোকে মুহ্যমান গাজার প্রতিটি ঘর আজ এক একটি গল্পের সাক্ষী হয়ে আছে যেখানে রক্তের কালিতে লেখা হচ্ছে অধিকার আদায়ের অবিনাশী বীরত্বগাথা যা চিরকাল মানুষের হৃদয়ে অমলিন থাকবে।