ইসরাইলের সাথে আলোচনার সিদ্ধান্তে লেবানন সরকার ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ
ইসরাইলের সাথে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ সরকারের এই উদ্যোগকে পুরোপুরি অকার্যকর হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তেল আবিবের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বা শক্ত অবস্থান লেবানন সরকারের নেই। সোমবার (২৭ এপ্রিল) লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিতর্ক এক ভিন্ন মাত্রা পায় যখন হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতিকে নীতিবিবর্জিত ও আদর্শিক বিচ্যুতির পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য আলী আম্মার এক আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারে সরকারের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে দক্ষিণ লেবাননের মানুষের আত্মত্যাগের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আসা তীব্র প্রতিক্রিয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট হিজবুল্লাহর এই অবস্থানের কড়া জবাব দিয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রপ্রধান পাল্টা অভিযোগ তুলে ধরেন যে নির্দিষ্ট কিছু পক্ষ একটি বিদেশি শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুরো দেশটিকে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই পারস্পরিক দোষারোপের ফলে বৈরুতের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
লেবানন সরকার যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খুঁজছে সেখানে হিজবুল্লাহর মতে এটি দক্ষিণ লেবাননের মানুষের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের অবমাননা। একদিকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার চ্যালেঞ্জ এবং অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের আশঙ্কা দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেবানন সরকার ও হিজবুল্লাহর এই মুখোমুখি অবস্থান দেশটির ভবিষ্যৎ গতিপথকে কোন দিকে নিয়ে যায় তা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।