ইসলামাবাদে ইরান যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাহেন্দ্রক্ষণ: একে বাঁচা মরার লড়াই বললেন শাহবাজ শরিফ
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নিরসন ও একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানে শুরু হতে যাওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনাকে অস্তিত্ব রক্ষার এক চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে এই ঐতিহাসিক আলোচনার প্রাক্কালে তিনি জানান যে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাটি অত্যন্ত জটিল হলেও বর্তমানে সঠিক পথেই অগ্রসর হচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকটি বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে যেখানে দীর্ঘদিনের বৈরী দুই রাষ্ট্র সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কূটনৈতিক প্রস্তুতির তথ্য শেয়ার করে জানান যে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। অন্যদিকে ইরান থেকেও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল নিয়ে দুটি বিমান পাকিস্তানের পথে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত খবর পেয়েছেন। যদিও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ইতিপূর্বে শর্তারোপ করে বলেছিলেন যে লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা কোনো আলোচনায় বসবেন না তবে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী একে কৌশলগত অবস্থান হিসেবে দেখছেন। শাহবাজ শরিফের মতে উভয় পক্ষই তাদের অভ্যন্তরীণ জনমত ও সমর্থকদের কাছে নিজেদের অবস্থান সুসংহত রাখতে এই ধরনের কঠোর বিবৃতি প্রদান করছে যা আলোচনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে তিনি শুরু থেকেই এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত নীতিনির্ধারকদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে ইরান কখনোই তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর স্বার্থকে বিঘ্নিত করতে চাইবে না। ইসলামাবাদের এই শান্তি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরো বিশ্বের নজর এখন পাকিস্তানের দিকে নিবদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে এই আলোচনা সফল হলে কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই নয় বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাকিস্তান সরকার এই বৈঠককে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
বারুদের ধোঁয়া আর অস্ত্রের আস্ফালনে যখন বিশ্বশান্তি বিপন্ন হয় তখন আলোচনার টেবিলই হয়ে ওঠে মানবতার শেষ ভরসা। দীর্ঘদিনের শত্রুতা আর অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে দুই পরাশক্তির মুখোমুখি বসা কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয় বরং এটি কোটি মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা পাওয়ার এক বিরল সুযোগ। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংকটের সমাধান মিলবে সংলাপের মাধ্যমে এবং কোনো সীমানাই আর যুদ্ধের রক্তাক্ত স্মৃতি বহন করবে না। অন্ধকারের সকল যুদ্ধংদেহী উন্মাদনা আর প্রতিহিংসা মুছে গিয়ে শান্তির আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি সীমান্ত এবং প্রতিটি রাষ্ট্র ফিরে পাক তার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্থিতিশীলতা। সাহসের সাথে এই শান্তির পথ অন্বেষণ করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক যুদ্ধমুক্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্ব।