বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের শোকসভা ও দোয়া মাহফিল
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য, বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার এবং বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল আহাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও তাঁর প্রদর্শিত জনকল্যাণমূলক ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় শপথ নিয়েছেন বৃহত্তর জৈন্তিয়া অঞ্চলের সুধীজন ও নেতৃবৃন্দ। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে সিলেট নগরীর মধুবন মার্কেটস্থ সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তারা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করেন যে এই নির্লোভ ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবককে তাঁর সততা ও কর্মের গুণে আজীবন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ রাখবে জৈন্তিয়াবাসী।
সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি ও বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় বক্তারা আব্দুল আহাদকে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক বিরল সংগঠক হিসেবে অভিহিত করেন। শোকসভাটি সঞ্চালনা করেন পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব প্রভাষক মহিউদ্দিন জাকারিয়া এবং সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আলোচনায় উঠে আসে যে আব্দুল আহাদ আমৃত্যু জৈন্তিয়া অঞ্চলের মানুষের নায্য অধিকার ও সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে ১০ দফা দাবি আদায়ে নিরলস লড়াই করে গেছেন। তাঁর নমনীয় আচরণ, প্রজ্ঞাসম্পন্ন কথা ও দক্ষ নেতৃত্বের ফলেই উন্নয়ন পরিষদ আজ আঞ্চলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে এক শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও মানবসেবার মহান ব্রত থেকে এক মুহূর্তের জন্যও পিছুপা হননি এই শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব যা বর্তমান সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক অনন্য নজির। সভায় বৃহত্তর জৈন্তিয়া উন্নয়ন পরিষদের সদস্য সচিব ও সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমেদ হেলালসহ বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ এবং জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফয়েজ আহমদ উপস্থিত থেকে মরহুমের অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো পূরণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এবং প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা এই শোকাতুর পরিবেশে আব্দুল আহাদের আদর্শকে ধারণ করে তাঁর উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিজেদের উৎসর্গ করার ঘোষণা প্রদান করেন। বক্তারা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে আব্দুল আহাদ কেবল একজন আইনজীবী ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন প্রান্তিক জনপদের অধিকার আদায়ের এক অকুতোভয় কণ্ঠস্বর।
একটি সমাজ যখন তাঁর সুযোগ্য অভিভাবককে হারায় তখন যে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয় তা পূরণ করা দুঃসাধ্য হলেও তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শই আগামীর পথচলার মূল শক্তি হয়ে থাকে। মানুষের কল্যাণে নিজের মেধা ও জীবন বিলিয়ে দেওয়ার যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন তা বৃহত্তর জৈন্তিয়া অঞ্চলের সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে আব্দুল আহাদের স্বপ্ন অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত ১০ দফা দাবি বাস্তবায়িত হবে এবং প্রতিটি ঘরে সুশাসনের সুফল পৌঁছে যাবে। অন্ধকারের সকল স্থবিরতা ও বৈষম্য মুছে গিয়ে প্রগতির আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি মানুষ খুঁজে পাক তার ন্যায্য অধিকার ও সমৃদ্ধি। সাহসের সাথে এই ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলনকে বেগবান করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক উন্নত ও আধুনিক জৈন্তিয়া।