বিশ্বনাথে আন্তর্জাতিক স্বর্ণজয়ী শাটলার তানভীরকে রাজকীয় সংবর্ধনা: ইনডোর স্টেডিয়ামের দাবি
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কৃতি সন্তান এবং ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ-২০২৫ এর গৌরবময় আসরে প্রথম স্বর্ণপদক জয়ী শাটলার আব্দুল জাহির তানভীরকে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধিত করা হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় যে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার বিশেষ সহযোগিতায় শনিবার বিকেলে এই কৃতি অ্যাথলেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের লাল-সবুজের পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ায় তানভীরের এই অর্জনকে এলাকার তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে অভিহিত করেছেন বক্তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক সভাপতি উম্মে কুলসুম রুবির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক স্বর্ণজয়ী শাটলার আব্দুল জাহির তানভীর তাঁর এই সাফল্যের পেছনের পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেন এবং বিশ্বনাথে মানসম্মত ব্যাডমিন্টন চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম স্থাপনের জন্য সংসদ সদস্যের নিকট জোরালো দাবি জানান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তাহসিনা রুশদীর লুনা তানভীরের অভূতপূর্ব অর্জনে গর্ব প্রকাশ করেন এবং তাঁর দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে অতি দ্রুত বিশ্বনাথে একটি ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়াসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের
চেয়ারম্যানবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব এমাদ উদ্দিন খান এবং বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শিপন আহমদ স্থানীয় সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে তানভীরের এই আন্তর্জাতিক সাফল্য বিশ্বনাথের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।
মাঠের ঘাম যখন আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকের গৌরবে রূপান্তরিত হয় তখন তা কেবল একজন ব্যক্তির নয় বরং পুরো জাতির শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক হয়ে দাঁড়ায়। প্রান্তিক জনপদ থেকে উঠে আসা একজন তরুণ যখন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন তখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা তাঁর চলার পথকে আরও মসৃণ করে তোলে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে উঠবে এবং আমাদের খেলোয়াড়রা বিশ্বমঞ্চে বুক ফুলিয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারবে। অন্ধকারের সকল সুযোগের অভাব আর অবকাঠামোগত সংকট মুছে গিয়ে সাফল্যের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি খেলার মাঠ এবং প্রতিটি প্রতিভাবান অ্যাথলেট ফিরে পাক তার প্রাপ্য সম্মান ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা। সাহসের সাথে এই জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক সুস্থ-সবল ও ক্রীড়াবান্ধব আধুনিক বাংলাদেশ।