জৈন্তাপুরে বসতবাড়িতে ইয়াবা বিক্রির আসর: পুলিশের অভিযানে দম্পতি গ্রেপ্তার
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় নিজ বাড়িতে মাদক ব্যবসার আখড়া গড়ে তুলে শেষরক্ষা হলো না এক দম্পতির। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন স্বামী ও স্ত্রী। রবিবার (১২ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় যে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের ছোটারী সেনগ্রাম এলাকায় এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসলেও পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় অবশেষে তাদের অন্ধকার জগতের অবসান ঘটল।
অভিযানিক দল সূত্রে জানা গেছে যে জৈন্তাপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল ওইদিন ভোরে ছোটারী সেনগ্রামের একটি বাড়িতে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থল থেকেই কুদরত উল্লাহ ও তাঁর স্ত্রী জাহেদা বেগমকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে কুদরত উল্লাহর নিকট থেকে ২৭ পিস এবং জাহেদা বেগমের নিকট থেকে ২৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এই ৫০ পিস ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার কুদরত উল্লাহ ওই এলাকার মিন্নত উল্লাহ মন্টুর পুত্র বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান যে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় জব্দতালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত দম্পতির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেন যে মাদক নির্মূলে পুলিশের এই অনমনীয় অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মাদকের বিষাক্ত ছোবল যখন পরিবারের অভ্যন্তরীণ চত্বরে পৌঁছে যায় তখন তা সমাজের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত বহন করে। যে ঘর হওয়ার কথা ছিল নীতি ও আদর্শের পাঠশালা সেটি যখন নেশার আখড়ায় পরিণত হয় তখন তারুণ্যের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি জনপদ হবে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এবং প্রতিটি পরিবার হবে আদর্শ নাগরিক তৈরির নিরাপদ আশ্রয়। অন্ধকারের সকল নেশার মরণফাঁদ আর অসাধু ব্যবসা মুছে গিয়ে সুশৃঙ্খল জীবনের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি এলাকা এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার সুস্থ ও কলুষমুক্ত সমাজ। সাহসের সাথে এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক তামাক ও মাদকমুক্ত আধুনিক বাংলাদেশ।