টানা বৃষ্টিতে স্থবির রাজধানী, জলাবদ্ধতা ও যানজটে চরম ভোগান্তি
রাজধানীতে টানা দ্বিতীয় দিনের বৃষ্টিতে জনজীবন আবারও ব্যাহত হয়েছে। সড়কে জলাবদ্ধতা ও তীব্র যানজটের কারণে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
সোমবার ১৩ জুলাই সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রভাবে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। ভোর থেকেই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বাতাসে আর্দ্রতা ও গুমোট আবহাওয়ার মধ্যে সকাল প্রায় ৯টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে মিরপুর, মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি ও মগবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়।
বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলমান পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের অতিরিক্ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। একই সঙ্গে কর্মস্থলে পৌঁছাতে অনেক অফিসগামীকে বাড়তি ভাড়া দিয়ে রিকশা ও সিএনজি ব্যবহার করতে হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা স্থগিত করে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছাতা হাতে গণপরিবহনের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে যাত্রীদের। অনেকেই প্রয়োজনের তাগিদে জলাবদ্ধ সড়ক পেরিয়ে গন্তব্যে রওনা হন। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করেছেন।
পল্টনগামী এক বেসরকারি চাকরিজীবী গণমাধ্যমকে জানান, বৃষ্টির কারণে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশার ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি নেওয়া হচ্ছে। অফিসে সময়মতো পৌঁছানোর প্রয়োজন থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সোমবার সন্ধ্যার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাতেও দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টি এবং সম্ভাব্য অতিভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, যানজট ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।