গণভোট প্রচারে ছয় মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ, মোট নির্বাচনি ব্যয় ছাড়াল ৩ হাজার ১৫০ কোটি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে গণভোট আয়োজনকে কেন্দ্র করে সরকারের মোট নির্বাচনি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের বাজেট শাখা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট মিলিয়ে মোট বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গণভোটের প্রচার কার্যক্রমে ছয়টি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা।
ইসি সূত্র জানায়, গণভোটের প্রচারে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ৪৬ কোটি টাকা, তথ্য মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৭ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ৭২ কোটি টাকা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে চারটি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে অর্থ পেয়েছে। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক অনুমোদনের পর বরাদ্দ গ্রহণ করবে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনসংযোগ শাখা গণভোটের প্রচারে ব্যয় করছে ৪ কোটি টাকা।
বাজেট শাখা আরও জানায়, মোট ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অন্যান্য কার্যক্রম মিলিয়ে মোট নির্বাচনি ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, প্রাথমিকভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় অতিরিক্ত বাজেটের চাহিদা জানানো হলে আরও ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে মোট বরাদ্দ দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।
তিনি জানান, গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যালট পেপার, জনবল, পরিবহন, খামসহ নির্বাচনি উপকরণ কেনায় ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু প্রচার কার্যক্রম কমিশন নিজেই পরিচালনা করছে। এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থ দেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গণভোটের পক্ষে সরাসরি প্রচার কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। মূলত টেলিভিশন ও রেডিওতে প্রচার, লিফলেট বিতরণ এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শনের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, গণভোটের প্রচার সামগ্রী যেমন সিসি ক্যামেরা, ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরিসহ বিতরণের কাজ তৃতীয় পক্ষকে দেওয়া হয়েছে, যা নির্দিষ্ট কিছু সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা যায়।