বিশ্ববাজারে সোনার দামে টানা ধস, প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও
বছরের শুরুতে একের পর এক রেকর্ড গড়ে ঊর্ধ্বমুখী থাকা সোনার দামে হঠাৎ করেই বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দামে টানা ধস নামায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বাজারেও।
গত বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম সাড়ে ৫ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করলেও মাত্র একদিনের ব্যবধানে বড় পতন ঘটে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক ধাক্কায় সোনার দাম কমে যায় প্রায় ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। দরপতনের এই ধারা শনিবারও (৩১ জানুয়ারি) অব্যাহত থাকে।
এদিন বেলা সোয়া ১২টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৯৩ দশমিক ২ ডলারে।
রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০ হাজার ৫০০ টাকারও বেশি। এত অল্প সময়ে এমন বড় দরপতন বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সম্প্রতি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে। এতে দাম দ্রুত বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে স্বল্প সময়ে বড় মুনাফা পাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী এখন লাভ তুলে নিতে শুরু করেছেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিতও সোনার দামে চাপ সৃষ্টি করছে। এসব কারণের সঙ্গে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন যুক্ত হয়ে সাম্প্রতিক দরপতন ঘটেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
বিশ্ববাজারের এই বড় পতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের সোনার বাজারে। শুক্রবার এক ধাক্কায় ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৯ টাকা কমার পর শনিবার (৩১ জানুয়ারি) আরও বড় দরপতনের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এদিন ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়। ফলে মাত্র দুই দফায় দেশের বাজারে ভরিপ্রতি সোনার দাম কমেছে ৩০ হাজার টাকার বেশি।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নেমে এসেছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়।
২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা,
১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা
এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে সোনার নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।
সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে কমেছে রুপার দামও। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা।
২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৯৪০ টাকায়,
১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা
এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা।