৩০ বছরের সামরিক শিক্ষা শিখিয়েছে ভারতই প্রধান শত্রু: ট্রাইব্যুনালে আযমীর জবানবন্দি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়নাঘরে গুম ও নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বরখাস্ত) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। জবানবন্দির দ্বিতীয় দিনে তিনি জানান, দীর্ঘ ৩০ বছরের সামরিক ক্যারিয়ারে তাকে শেখানো হয়েছে ভারতই বাংলাদেশের প্রধান শত্রু। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী হিসেবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে আযমী বলেন, ২০১৬ সালে অপহরণের পর তাকে আয়নাঘরে আটকে রেখে ভারতের বিরুদ্ধে লেখালেখি নিয়ে বারবার জেরা করা হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জেরার মুখে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যদি ভারতের বিরোধিতা করা অপরাধ হয়, তবে গত তিন দশকে তাকে যে সব সেনাপ্রধান ও জেনারেল এই শিক্ষা দিয়েছেন, তারাও সমান অপরাধী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অপরাধ করলে কেন তাকে আদালতে সোপর্দ না করে দীর্ঘ আট বছর অবৈধভাবে আটকে রাখা হলো।
জবানবন্দিতে বন্দি জীবনের চরম মানবেতর পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে আযমী বলেন, তাকে যে তোশক দেওয়া হয়েছিল তা ছিল শত শত ছারপোকায় ঠাসা। ছারপোকার কামড়ে তার কাপড় রক্তাক্ত হয়ে যেত। ইবাদতের জন্য পরিষ্কার কাপড় চাইলে তা দেওয়া হয়নি। এমনকি জীর্ণ ও ছিঁড়ে যাওয়া কাপড় সেলাই করার জন্য সুঁই-সুতা পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়নি, ফলে গিট দিয়ে তাকে কাপড় পরতে হয়েছে।
আযমী অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের দিকে জিজ্ঞাসাবাদে তাকে জোরপূর্বক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে জামায়াতের পরবর্তী আমির হওয়ার স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেন। এর জবাবে তিনি বলেন, তার পিতা জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা হলেও দলের সঙ্গে তার কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। জামায়াতে উত্তরাধিকার সূত্রে নেতৃত্বের কোনো বিধান নেই উল্লেখ করে তিনি এই দাবিকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেন।
জবানবন্দিতে তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাকে মুক্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন যে, একটি বিশেষ আশঙ্কা থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল যা পরে কেটে গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়। এক পর্যায়ে প্রাণনাশের আশঙ্কা করলে কর্মকর্তারা তাকে বলেন, মেরে ফেলতে চাইলে অনেক আগেই তা সম্ভব ছিল।
উল্লেখ্য, গত রবিবার আযমীর জবানবন্দি শুরু হয় এবং সোমবার তা শেষ হয়। আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন বলে দিন ধার্য করা হয়েছে।