কৃত্রিম পদ্ধতিতে ইলিশ চাষের অনুমতি দেয়নি সরকার: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) বা অন্য কোনো ইনডোর ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ইলিশ মাছ চাষের বিষয়ে সরকারের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই। ফলে এ ধরনের পদ্ধতিতে ইলিশ চাষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশে ইলিশ চাষ সংক্রান্ত আলোচনা ও তথ্যের প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সভাপতিত্বে এ সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইলিশ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। দেশের নদী ও উপকূলীয় প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র এবং ঐতিহ্য ও জীবিকার সঙ্গে ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইলিশের উৎপাদন মূলত প্রাকৃতিক প্রজনন চক্রের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ সংক্রান্ত যেকোনো উদ্যোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বর্তমানে আরএএস বা নিবিড় পদ্ধতিতে ইলিশ চাষের কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। ইলিশ সংক্রান্ত যেকোনো গবেষণা বা প্রযুক্তিগত কার্যক্রম অবশ্যই বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে হতে হবে। অনুমোদনবিহীন কোনো কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয় বলে সতর্ক করা হয়েছে।
জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দিয়ে সরকারি তথ্যের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ডেনমার্কের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে আরএএস প্রযুক্তিতে ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে এই স্পষ্টীকরণ এলো।