দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে ঢাকা ১১ আসনের প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে উচ্চ আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ
নির্বাচনী মাঠে যখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে তখন ঢাকা ১১ সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। মূলত ১০ ফেব্রুয়ারি এই আবেদনের ওপর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠানের প্রাথমিক দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দেশের প্রচলিত সংবিধান ও বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একজন যোগ্য প্রার্থীর একক নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেওয়া হয় যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ মোট চারজনকে বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী মো. নাহিদ ইসলাম গত বছরের ২০ এপ্রিল ক্যারিবীয় অঞ্চলের রাষ্ট্র ডমিনিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন যা একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আবেদনকারী আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে আইনি বিধিবিধান অনুসরণ করে বিষয়টি আদালতের সামনে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হবে।
গুলশানের একাধিক এলাকা এবং সবুজবাগের একাংশ নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভোটারের সংখ্যা চার লক্ষাধিক যেখানে নারী ও পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের অংশগ্রহণও রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আইনি প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন যে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সত্যের উন্মোচন এবং যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের এই প্রক্রিয়াটি প্রকারান্তরে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও মজবুত ও স্বচ্ছ করবে।
একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় ভোটাররা যখন কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তখন আইনের এই স্বচ্ছ বিচারই পারে জনমনে আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে। দিনশেষে ন্যায়বিচারের জয় এবং সৎ নেতৃত্বের উত্থানই হোক আমাদের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সার্থকতা।