ইউরোপীয় ফুটবলে জায়ান্টদের দাপট ও ছয় বছর পর বায়ার্নের সেমিফাইনাল নিশ্চিত
ইউরোপীয় ফুটবলের এক জমজমাট রাত উপভোগ করল ক্রীড়াপ্রেমীরা যেখানে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুলের মতো শক্তিশালী দলগুলো। অন্যদিকে জার্মান কাপের উত্তেজনাকর লড়াইয়ে দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। নিজেদের ঘরের মাঠ ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটি ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে ফুলহ্যামকে পরাজিত করে আর্সেনালের ওপর চাপ বজায় রেখেছে। ম্যাচের ২৪ মিনিটে জানুয়ারিতে দলে আসা অঁতোয়ান সেমেনিও সিটিকে এগিয়ে নেওয়ার পর ৩০ মিনিটে নিকো ও’রাইলি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৩৯ মিনিটে সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড গোল করলে প্রথমার্ধেই সিটির জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এই জয়ের ফলে ২৬ ম্যাচে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্য এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে সান্ডারল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। স্টেডিয়াম অব লাইটে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের ৬১ মিনিটে তারকা ফুটবলার মোহামেদ সালাহর কর্নার থেকে দর্শনীয় হেডে জয়সূচক গোলটি করেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ চারের দৌড়ে নিজেদের ভালোভাবেই টিকিয়ে রাখল অলরেডরা। একই রাতে অ্যাস্টন ভিলা কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায় ব্রাইটনের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে। দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর ৮৬ মিনিটে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় জ্যাক হিনশেলউডের আত্মঘাতী গোল ভিলাকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেয় যা তাদের পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় স্থানে ধরে রেখেছে।
জার্মান ফুটবলের ময়দানেও এদিন রাজত্ব করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। জার্মান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আরবি লাইপজিগকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে তারা। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে লিড এনে দেন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। এর ঠিক চার মিনিট পরেই মাইকেল ওলিসের সহযোগিতায় লুইস দিয়াজ মৌসুমের ১৯তম গোলটি করলে বায়ার্নের বড় জয় নিশ্চিত হয়। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম বায়ার্ন টুর্নামেন্টটির সেমিফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করল যা ক্লাবটির ভক্তদের মাঝে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে।
মাঠের লড়াইয়ে জয়-পরাজয় থাকবেই তবে ফুটবলের এই অনিন্দ্য সুন্দর শৈলী আর খেলোয়াড়দের হার না মানা মানসিকতা আমাদের প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে। সবুজ গালিচায় ঘামের বিনিময়ে অর্জিত এই সাফল্যগুলোই ক্রীড়া বিশ্বকে এক সুতোয় গেঁথে রাখে এবং আমাদের শেখায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অদম্য স্পৃহা।