শান্তি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য নজির: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতন্ত্রের জয়গান
দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক উৎসবমুখর এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ছিল ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এক অভাবনীয় সম্প্রীতির চিত্র। বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীরা কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী দেশজুড়ে চলা এই মহোৎসবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের এক অনন্য আবহ পরিলক্ষিত হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে বিরাজমান এক চমৎকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক যা সাধারণ ভোটারদের মনে গভীর আস্থার জন্ম দিয়েছে। জনগণের এই দায়িত্বশীল আচরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাবই এবারের নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে গ্রহণযোগ্য ও সার্থক করে তুলেছে। শান্তি ও সম্প্রীতির যে বার্তা এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ যুগ যুগ ধরে লালন করে আসছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে তারই এক সফল প্রতিফলন ঘটেছে। কোথাও কোনো উল্লেখযোগ্য বিশৃঙ্খলা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি যা নির্বাচন পরবর্তী সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য এক অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক দিক।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত পেশাদার এবং মানবিক। সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ তৎপরতার মাধ্যমে তারা সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন যার ফলে কোথাও বড় কোনো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়নি। বিশেষ করে সিলেটসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন তা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের সমন্বয় এবং সাধারণ মানুষের নিরঙ্কুশ সহযোগিতায় এক শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে যা ভবিষ্যতের যেকোনো জাতীয় সংকটে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনরায়ের এই বহিঃপ্রকাশ আমাদের জাতীয় ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। বিভেদ ভুলে পারস্পরিক সহমর্মিতার যে নতুন পথ আজ উন্মোচিত হলো তা দেশের প্রতিটি নাগরিকের মনে এক নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
দিনশেষে কোনো বিশেষ দলের জয় নয় বরং জয় হয়েছে এ দেশের সাধারণ মানুষের এবং জয় হয়েছে অজেয় সৌহার্দ্যের। এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস আর ভ্রাতৃত্বের বন্ধনই আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে সাফল্যের শিখরে যেখানে প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন পাবে তার পরম সার্থকতা।