যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বন্দুক হামলা; নিহত ২
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফের বন্দুক সহিংসতার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাউথ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি আবাসিক ভবনে বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিক এক হামলায় দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও একজন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত সোয়া ৯টার দিকে হিউজেইন স্যুটস ছাত্রাবাস কমপ্লেক্সের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই গুলির ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে পুরো ক্যাম্পাসে লকডাউন জারি করে এবং সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে।
ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের জন্য সুপরিচিত এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অরেঞ্জবার্গ শহরে অবস্থিত, যেখানে তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে গুলির শব্দ শোনার পরপরই জননিরাপত্তা দপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে হামলার প্রকৃত কারণ কিংবা এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। নিহতদের পরিচয় ও আহত ব্যক্তির বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় পুলিশ এখনও গোপনীয়তা বজায় রাখছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে সাউথ ক্যারোলাইনা ল’ এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনকে (SLED) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জবার্গ শহরটি রাজ্য রাজধানী কলম্বিয়া থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এবং এটি ক্লাফলিন ইউনিভার্সিটির মতো আরও একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেরও আবাসস্থল। বৃহস্পতিবার রাতের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শুক্রবারের সকল ক্লাস বাতিল করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন।
শিক্ষাঙ্গনের পবিত্র আঙিনায় এমন প্রাণঘাতী সহিংসতা কেবল একটি পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, বরং এটি পুরো সমাজের নিরাপত্তার বোধকে নাড়িয়ে দেয়। আমরা এমন এক পৃথিবীর প্রত্যাশা করি যেখানে কলম ও বইয়ের মাঝে কোনো মারণাস্ত্রের শব্দ শোনা যাবে না এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী নির্ভয়ে তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে। দিনশেষে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা হোক সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।