সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশি জনগণকে জাতিসংঘের প্রাণঢালা অভিনন্দন
কটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে জাতিসংঘ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দেশবাসীকে এই শুভেচ্ছা জানান এবং আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে উন্নয়নমূলক সব কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার জোরালো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ায় এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে যা দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। সংস্থাটি আশা প্রকাশ করে যে নতুন সরকার জনমানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব সকল রাজনৈতিক পক্ষকে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে একটি সমৃদ্ধ জাতির মেরুদণ্ড হলো তার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে জাতিসংঘ তার কারিগরি ও উন্নয়ন সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখবে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন দেশ ও রাষ্ট্রনেতারাও বাংলাদেশের এই নির্বাচনের সফল সমাপ্তিতে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত, চীন এবং শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোও এই নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলটির দূরদর্শী নেতা তারেক রহমানকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সংস্থার এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের প্রতি বৈশ্বিক আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মতো দেশগুলোও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। বিদেশি গণমাধ্যমগুলো এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের মানুষের হারানো ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের এক বড় বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।
সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিবেকের এই সংহতি ও অকুণ্ঠ সমর্থন আমাদের আগামীর পথচলাকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও গতিশীল করবে। আমরা বিশ্বাস করি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এই সেতুবন্ধন আর অভ্যন্তরীণ ঐক্যের শক্তিতে বাংলাদেশ হয়ে উঠবে দক্ষিণ এশিয়ার এক অন্যতম শান্তিময় ও সমৃদ্ধ জনপদ। দিনশেষে জনরায়ের প্রতি এই বৈশ্বিক সম্মান আমাদের গণতন্ত্রের ভিতকে আরও মজবুত করবে এবং প্রতিটি নাগরিকের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে।