নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন; চিঠির অপেক্ষায় নির্বাচন কমিশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথ গ্রহণের মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়াগুলো এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান যে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ পাঠ করানোর আনুষ্ঠানিক চিঠিটি আজই কমিশনের হাতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের সকল কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ অনুষ্ঠানের প্রাথমিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
সংসদ সচিবালয়ের সূত্রমতে শপথ অনুষ্ঠানের পর একই দিন বিকেলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদলের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সেই এই শপথবাক্য পাঠ পরিচালনা করবেন। উল্লেখ্য যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই দশক পর পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ২৯৭টি আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় চট্টগ্রাম ২ ও ৪ আসনের ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঝুলে রয়েছে।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায় বিএনপি একাই ২০৯টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে যেখানে তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা আরও ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যারা এককভাবে ৬৮টি আসনে বিজয় লাভ করেছে। গণতান্ত্রিক এই অগ্রযাত্রায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী এবং সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যে শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনকে এক নতুন ও বর্ণিল সাজে সজ্জিত করেছে। জনগণের রায়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং একটি জবাবদিহিমূলক সরকার উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
একটি সফল ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে জনপ্রতিনিধিদের এই পদচারণা দেশের গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে জনস্বার্থ রক্ষার যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে তা আমাদের জাতীয় অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
নতুন ভোরে প্রতিটি মানুষের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হোক এবং দেশের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে পড়ুক ন্যায়বিচার ও মানবিকতার আলো। আমরা বিশ্বাস করি সৌহার্দ্য আর দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে নতুন এই যাত্রা বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে যেখানে জনগণের আস্থাই হবে সরকারের মূল চালিকাশক্তি।