এলএনজি টার্মিনালে রক্ষণাবেক্ষণ; সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত তিতাস এলাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকার গ্রাহকদের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকাগুলোতে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিতাস কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায় যে রক্ষণাবেক্ষণ জনিত কারণে বর্তমানে একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে এলএনজি থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থার এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে তিতাস গ্যাসের বিতরণ নেটওয়ার্কের ওপর। যার ফলে ঢাকা শহরসহ পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে সব শ্রেণির গ্রাহক—আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প—প্রান্তেই গ্যাসের ‘মারাত্মক স্বল্পচাপ’ দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে আগামীকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত এই সংকট অব্যাহত থাকতে পারে।
গ্যাসের এই তীব্র স্বল্পচাপের কারণে ইতিমধ্যে রাজধানীর অনেক এলাকায় আবাসিক গ্রাহকদের রান্না ও প্রাত্যহিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনগুলোতেও স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাবে। তবে এর আগ পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার ও বিকল্প উপায়ে কাজ চালানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যান্ত্রিক নির্ভর এই আধুনিক জীবনে গ্যাস বা বিদ্যুতের মতো মৌলিক সেবাগুলোর সাময়িক বিঘ্ন আমাদের নাগরিক জীবনকে কিছুটা অচল করে দেয়। আমরা প্রত্যাশা করি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং তিতাস গ্যাসের গ্রাহকরা আবার স্বাভাবিক সেবা ফিরে পাবেন।