দেশ ছাড়ার বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগ এবং দেশ ছাড়ার সংবাদ নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান নিয়ে নানা জল্পনা ও সমালোচনা তৈরি হলে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা প্রদান করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন যে তাঁর দেশত্যাগ কোনো গোপন বিষয় নয় বরং এটি পারিবারিক প্রয়োজনে এবং যথাযথ আনুষ্ঠানিকতা মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উল্লেখ করেন যে গত ৮, ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি আইসিটি ও বিটিআরসি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁর শেষ অফিসিয়াল কর্মদিবস। সহকর্মীদের সাথে বিদায়ী ডিনারে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও তিনি তাঁর বার্তায় তুলে ধরেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের অগ্রাধিকারের কথা জানিয়েছেন। তিনি লেখেন যে তাঁর ছেলের স্কুলের প্যারেন্টস মিটিং এবং স্ত্রীর জরুরি শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি ছুটি নিয়ে পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পরিবারকে সময় দিতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি এই সময়টিকে সন্তানদের পাশে থাকার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য যে নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক এই অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ২০২৫ সালের ৫ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়েও তিনি এই পোস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছেন যে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি কোনো অন্যায়ের সাথে জড়িত ছিলেন না এবং প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে গ্রহণ করেছেন। নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালন শেষেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রস্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক বিষয় হলেও যথাযথ ব্যাখ্যার মাধ্যমে সংশয় দূর করা সম্ভব। আমরা আশা করি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এই সংস্কৃতি আমাদের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে। প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের গুরুত্ব অপরিসীম তবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠা ও সততাই একজন ব্যক্তিকে জাতির কাছে স্মরণীয় করে রাখে।