ত্রয়োদশ সংসদে কোটিপতির মেলা; ২৩৬ জন সদস্য কোটিপতি ও ১৩ জন শতকোটিপতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্যদের সম্পদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২৩৬ জনই কোটিপতি এবং তাঁদের মধ্যে ১৩ জন রয়েছেন শতকোটিপতির তালিকায়। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ধানমন্ডির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২৩৬ জন কোটিপতির মধ্যে রাজনৈতিক দলভিত্তিক বিভাজনে দেখা যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সদস্য সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। দলটির নির্বাচিত ১৮৯ জন সদস্য কোটিপতি, যা বিএনপির মোট সংসদ সদস্যদের প্রায় ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৮ জন সদস্য কোটিপতি তালিকায় রয়েছেন, যা দলটির মোট সদস্য সংখ্যার ৫৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৭৯ দশমিক ৪৬ শতাংশই কোটিপতি এবং তাঁদের বড় একটি অংশই পেশায় ব্যবসায়ী।
টিআইবির এই পর্যবেক্ষণে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে যা নিম্নরূপ:
* বয়সভিত্তিক হার: নির্বাচিত এমপিদের গড় বয়স ৫৯ বছর। এর মধ্যে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী সদস্য রয়েছেন ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
* নতুন মুখ: এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ২০৯ জন যা মোট সদস্যের প্রায় ৭০ শতাংশ।
* নির্বাচনী ব্যয়: নির্ধারিত ব্যয়সীমার চেয়ে প্রার্থীরা গড়ে ৭৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বেশি ব্যয় করেছেন। ব্যয়ের ক্ষেত্রেও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বিএনপি (৩২৭ দশমিক ৫ শতাংশ)।
* ঋণের পরিমাণ: ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ঘোষিত মোট দায়ের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা এবং প্রায় অর্ধেক সদস্যই কোনো না কোনোভাবে ঋণগ্রস্ত।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে এই সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ যা ২০০৮ সালের নবম সংসদের তুলনায় অর্ধেক এবং এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া ৯৯ শতাংশ প্রার্থী নির্বাচনের কোনো না কোনো আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন বলেও টিআইবির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন যে রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব সংকুচিত হচ্ছে যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় এই নীতিনির্ধারণী ফোরামে সম্পদের এই পাহাড় আর ব্যবসায়ী শ্রেণির একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি সম্পদের এই বৈভব জনকল্যাণে এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে যেখানে প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর পাবে যথাযথ মর্যাদা।