পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গুরুদায়িত্বে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত নতুন সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ শেষে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে নির্বাচিত হন যা তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁও জেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ষাটের দশকের উত্তাল দিনগুলোতে ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি হয় এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকে শিক্ষকতা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের পূর্ব অভিজ্ঞতা বেশ সমৃদ্ধ। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় দুই দশক পর এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাবেন। তৃণমূলের উন্নয়ন এবং পল্লী অঞ্চলের অবকাঠামো সংস্কারে তাঁর এই নতুন ভূমিকা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করছে।
বিএনপির এই অভিভাবক মহাসচিব হিসেবে কঠিন সময়ে দলটিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে যেমন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনি সংসদীয় কার্যক্রমেও তাঁর জোরালো ভূমিকা সংসদকে প্রাণবন্ত করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদের হাত ধরে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠবে এমনটাই এখন সচেতন মহলের প্রত্যাশা।
একটি দক্ষ ও কল্যাণমুখী প্রশাসন উপহার দেওয়াই নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি মেধা ও অভিজ্ঞতার এই সমন্বয় আগামী দিনের বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে বিশেষ সহায়ক হবে যেখানে প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার থাকবে সুরক্ষিত।