এক নতুন ভোরের সূচনা; প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে খোদিত হলো। দীর্ঘ ২০ বছর পর রাজপথের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। বিকে ৪টা ১৩ মিনিটে যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ও গোপনীয়তার শপথ গ্রহণ করেন, তখন পুরো সংসদ এলাকা ‘ধানের শীষ’ স্লোগান আর উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে।
শপথ গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন সুসংহত করা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে ভারত, পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক ও সৌদি আরবসহ বিশ্বের ১৩টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নতুন সরকারের প্রতি তাঁদের সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের পর একই সুসজ্জিত মঞ্চে শপথ নেন তাঁর নবগঠিত ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা। এই বিশাল মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। যেখানে প্রবীণ ও নবীনের এক অনন্য সমন্বয় দেখা গেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অর্পণ করা হয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের গুরুভার। এই মন্ত্রিসভায় বিশেষ করে জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরের মতো তরুণ নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি সংস্কারমুখী রাজনীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের উল্লেখযোগ্য তালিকা নিম্নরূপ:
২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও তাঁদের দপ্তর (সম্ভাব্য): * মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
* আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী: অর্থ ও পরিকল্পনা
* সালাহ উদ্দিন আহমদ: স্বরাষ্ট্র
* ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
* হাফিজ উদ্দিন আহমেদ: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক
* খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট): পররাষ্ট্র
* খন্দকার আবদুল মুক্তাদির: বাণিজ্য ও শিল্প
* আ স ম এহসানুল হক মিলন: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
* জহির উদ্দিন স্বপন: তথ্য ও সম্প্রচার
* আফরোজা খানম রিতা: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন
* এজেড এম জাহিদ হোসেন: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ
২৪ জন প্রতিমন্ত্রী (উল্লেখযোগ্য): এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, নুরুল হক নুর, ববি হাজ্জাজ এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই অভিষেক দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের শেষে তিনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন যখন দেশ এক বিশাল সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নতুন এই সরকার জনগণের প্রতিটি মৌলিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করবে—এমনটাই এখন কোটি মানুষের প্রত্যাশা