হতদরিদ্র ও নারীরা অগ্রাধিকারে; ঈদের আগেই ৫ কোটি পরিবার পাচ্ছে 'ফ্যামিলি কার্ড'
দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নবনির্বাচিত সরকারের একটি বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় 'ফ্যামিলি কার্ড' চালুর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৫ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
সভা শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
ফ্যামিলি কার্ডের মূল বিষয়সমূহ
* উপকারভোগী: প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে। তবে সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে হতদরিদ্র পরিবার এবং পরিবারে নারীদের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে।
* সহায়তার ধরন: কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান করা হবে।
* সময়সীমা: পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হবে।
চাকরিচ্যুত ও গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে 'মব জাস্টিস' বা বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন:
* বিধিবহির্ভূত ছাঁটাই নয়: কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কাউকে চাকরিচ্যুত করতে হলে অবশ্যই প্রাতিষ্ঠানিক বিধি অনুসরণ করতে হবে। মব বা ভিড় করে কাউকে জোরপূর্বক পদত্যাগ বা চাকরিচ্যুত করা যাবে না।
* বাসস প্রসঙ্গ: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলার ঘটনাকে তিনি 'দুঃখজনক' হিসেবে অভিহিত করেন।
* সাংবাদিকদের সুরক্ষা: বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সাংবাদিকের চাকরি গেলে বা ছাঁটাই করা হলে সে বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়কে জবাবদিহি করতে হবে। এ বিষয়ে শীঘ্রই একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা সিদ্ধান্ত আসছে বলে তিনি জানান।
নবগঠিত সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ একদিকে যেমন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াবে, অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।