প্রবাসীদের শেষ যাত্রা হবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়: বিনা খরচে মরদেহ আনার ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অধিকার সুরক্ষা ও তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এক মানবিক ও সাহসী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করেন যে, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের মরদেহ সম্পূর্ণ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিদেশে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে গিয়ে যারা প্রাণ হারান, তাঁদের মরদেহ নিয়ে স্বজনদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর ভোগান্তির অবসান ঘটাতেই সরকারের এই বিশেষ পরিকল্পনা।
প্রবাসীদের মরদেহ বিমানবন্দর থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বহরে নতুন দুটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। আগে থেকেই তিনটি গাড়ি এই সেবায় নিয়োজিত ছিল, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচে। এর ফলে বিমানবন্দর থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মরদেহ দ্রুততম সময়ে এবং পরম মমতায় স্বজনদের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে নিবেদিত এই সেবাটি দেশের প্রতি তাঁদের অসামান্য ত্যাগের এক ক্ষুদ্র স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে মন্ত্রণালয়।
আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে নুরুল হক নুর জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানো মাত্রই তাৎক্ষণিক দাফন ও অন্যান্য খরচের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সঠিক নিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিদেশের মাটিতে কর্মরত অবস্থায় কেউ প্রাণ হারালে তাঁর পরিবারকে বর্তমানে ১৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই নিরাপত্তা বলয়কে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বিদেশের মাটিতে বিরামহীন শ্রম দেওয়া প্রতিটি প্রবাসীর স্বপ্ন থাকে কাজ শেষে সুস্থ শরীরে পরিবারের কাছে ফেরার। কিন্তু ভাগ্য বিড়ম্বনায় যাদের নিথর দেহ দেশে ফেরে, তাদের সম্মান জানানো রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। প্রতিমন্ত্রীর এই নতুন উদ্যোগ কেবল একটি দাপ্তরিক ঘোষণা নয়, বরং এটি পরবাসে থাকা লাখো প্রাণের প্রতি স্বদেশের পরম নির্ভরতার এক বার্তা। প্রতিটি প্রবাসীর শেষ বিদায় যেন স্বজনের সান্নিধ্যে মর্যাদার সাথে সম্পন্ন হয়, আগামীর সুশাসনে এটাই হোক মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।