জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নে নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি: ইশরাক হোসেনের ব্রিফিং
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত বীরদের স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ভেদাভেদ বা পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো যোগ্য ব্যক্তি যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
ব্রিফিংকালে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন যে, বিগত সময়ে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে অনেক প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিশেষ করে বিএনপি ও বিরোধী মতাদর্শের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় অসংখ্য ব্যক্তি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রাপ্য সাহায্য ও সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বাদ পড়া জুলাইযোদ্ধাদের দ্রুততম সময়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে প্রকৃত বিপ্লবীরা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ফিরে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সভায় জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের সুচিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারগুলোর সম্মানজনক পুনর্বাসনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই আহত ও শহীদ পরিবারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তাঁদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাঁদের জন্য উন্নত সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
যাদের রক্ত আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ নতুন এক ভোরের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ, সেই বীরদের যথাযথ সম্মান দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো দলীয় সংকীর্ণতা যেন এই বিশাল অর্জনকে ম্লান করতে না পারে, সেজন্য সরকারের এই নিরপেক্ষ অবস্থান একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। জুলাইযোদ্ধাদের ত্যাগ কোনো নির্দিষ্ট দলের নয় বরং গোটা জাতির; তাই প্রতিটি শহীদের রক্ত আর আহতের আর্তনাদ যেন রাষ্ট্রীয় দলিলে সমান মর্যাদায় ঠাঁই পায়—এটাই হোক আগামীর ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের মূল ভিত্তি।