শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে শ্রমিক মালিক সুসম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ শ্রমমন্ত্রীর
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহ সফলভাবে মোকাবিলায় শিল্পকারখানায় শ্রমিক ও মালিকের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা ও সুসম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পঁচিশ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সাথে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই গুরুত্বপূণ বার্তা প্রদান করেন। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্বশীল কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে শিল্পখাতকে এগিয়ে নিতে হবে।
সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন যে সরকারের বর্তমান লক্ষ্য অর্জনে শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ এবং সুসম্পর্ক স্থাপিত হলে কেবল উৎপাদনশীলতাই বৃদ্ধি পাবে না বরং কর্মপরিবেশের সামগ্রিক মান উন্নয়ন সম্ভব হবে। তিনি নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে আরও সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনমুখী শিল্প পরিবেশ বজায় রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে প্রাক প্রস্থান ওরিয়েন্টেশন বা বিদেশ যাওয়ার পূর্ববর্তী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা না হলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মীদের আচরণ ও দক্ষতা নিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষে দেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক ও সক্রিয় করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
উক্ত সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত থেকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও টেকসই শিল্প পরিবেশ নিশ্চিতকরণে নিজেদের মতামত বিনিময় করেন। শিল্পখাতের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয় এই আলোচনায়।
শ্রমিক ও মালিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একটি দেশের সমৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি। কলকারখানার চাকা সচল রাখতে যখন ঘাম আর মেধা একীভূত হয় তখনই রচিত হয় সাফল্যের নতুন ইতিহাস। পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সহযোগিতার এই মেলবন্ধন কেবল কলকারখানার শ্রীবৃদ্ধি ঘটায় না বরং এটি লক্ষ লক্ষ পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়ে জাতীয় উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করে। আগামীর সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই সম্প্রীতির যাত্রা অব্যাহত থাকুক এবং প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত হোক এটিই এখন সময়ের প্রত্যাশা।