সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত চালক ও সহযোগী আটক
সিলেটের জৈন্তাপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বালুবাহী একটি ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশের এক উপ সহকারী পরিদর্শক বা এএসআই প্রাণ হারিয়েছেন। সাতাশ ফেব্রুয়ারি দুপুরে দরবস্ত ইউনিয়নের টেংরা বারাইকান্দি এলাকায় সিলেট তামাবিল মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় আরও একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই ঘাতক ট্রাকসহ চালক ও তাঁর সহযোগীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
জৈন্তাপুর মডেল থানা সূত্রে জানা যায় যে দুপুর আনুমানিক সোয়া দুইটার দিকে এএসআই আতিকুর রহমান ও এএসআই সোহেল রানা মোটরসাইকেল যোগে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজে দরবস্ত ইউনিয়নের দিকে যাচ্ছিলেন। জাফলং থেকে সিলেট অভিমুখী একটি বালুবাহী ট্রাক পেছন থেকে তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে আঘাত করলে উভয় কর্মকর্তা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। গুরুতর আহত আতিকুর রহমানকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল পাঁচটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত আতিকুর রহমানের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানার গড়বিশুদিয়া গ্রামে। তিনি মো সামছুল হকের সন্তান। এই দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকচালক মঞ্জুর হোসেন এবং তাঁর সহযোগী ফয়সালকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আটককৃতরা যথাক্রমে ফেনীর দাগনভূঞা ও ফেনী সদর এলাকার বাসিন্দা। জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন যে এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জননিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অকালে ঝরে পড়া এই প্রাণ আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করে। একজন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তার এমন প্রস্থান পুলিশ বাহিনীর জন্য যেমন অপূরণীয় ক্ষতি তেমনি তাঁর পরিবারের জন্য এটি এক অপার্থিব শোকের অধ্যায়। সড়কের বিশৃঙ্খলা আর বেপরোয়া গতির বলি হয়ে আর কত প্রাণ এমন অকালে নিভে যাবে সেই প্রশ্ন আজ প্রতিটি সচেতন মানুষের মনে। বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি সড়কজুড়ে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক এবং প্রতিটি মানুষের ঘরে ফেরা নিশ্চিত হোক এটিই আমাদের পরম প্রার্থনা। প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা সহ্য করার শক্তি সৃষ্টিকর্তা শোকসন্তপ্ত পরিবারকে দান করুন। মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপ হোক নিরাপদ এবং প্রতিটি জীবন পাক তার প্রাপ্য সম্মান।