সমঝোতার চাঁদা বৈধ তবে চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না নৌপরিবহন মন্ত্রী
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যকার সমঝোতাভিত্তিক চাঁদা গ্রহণকে বৈধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে অবৈধ উপায়ে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। সাতাশ ফেব্রুয়ারি পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌযাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান যে সড়ক ও নৌপথে ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় করার লক্ষে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের আগে ও পরে পাঁচ দিন করে মোট দশ দিন সড়ক ও নৌপথে যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে। দেশের সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে কোনো হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে।
নৌপথের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার লক্ষে আয়োজিত এই সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে নির্দিষ্ট নীতিমালার বাইরে গিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয় তবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
উৎসবের আনন্দ যখন দুয়ারে কড়া নাড়ে তখন প্রতিটি মানুষের মনে থাকে প্রিয়জনের কাছে নিরাপদে পৌঁছানোর ব্যাকুলতা। সড়কের শৃঙ্খলা আর পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে সেই আনন্দ বহুগুণ বেড়ে যায়। শ্রমিকের ঘাম আর মালিকের পুঁজি যখন সমঝোতার ভিত্তিতে এক হয় তখন পরিবহন ব্যবস্থা সচল থাকে কিন্তু তা যেন কখনোই সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়। ঈদ হোক সবার জন্য নিরাপদ এবং প্রতিটি যাত্রীর পথ চলা হোক আনন্দময় ও স্বস্তিদায়ক। ভ্রাতৃত্ব আর সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও শৃঙ্খল যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হোক আমাদের লক্ষ্য যাতে উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে স্মৃতিময়।