প্রশাসনে কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি ও সময়নিষ্ঠা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা
দেশের সরকারি অফিসগুলোতে দীর্ঘদিনের প্রচলিত সংস্কৃতি পরিবর্তন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত সতেরো ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সময়নিষ্ঠা এবং নিয়মিত উপস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছেন। সাতাশ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে যে তাঁর এই কঠোর ও কর্মতৎপর অবস্থানের কারণে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ও সর্তকতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কেবল নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি বরং গত বাইশ ফেব্রুয়ারি সকাল নয়টা পাঁচ মিনিটে নিজেই সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই আকস্মিক উপস্থিতিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকলেই বিস্মিত হন। সেদিন তিনি কেবল নিজের দপ্তরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি বরং বিভিন্ন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের উপস্থিতির খবর নেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাপ্তরিক কাজ শুরু করার বিষয়ে তিনি মৌখিক নির্দেশনা প্রদান করেন যা সচিবালয় জুড়ে এক ধরনের ইতিবাচক ভীতি ও সচেতনতা তৈরি করেছে।
টানা দুই দিন সচিবালয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করার পর সরকারি ছুটির দিনেও প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাঁর এমন বিরামহীন পরিশ্রম ও নিয়মানুবর্তিতাকে প্রশাসনের জন্য একটি শক্তিশালী ও পরিষ্কার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর মনোভাবের প্রেক্ষিতে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করেছে। উক্ত আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে সকাল নয়টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত না হওয়া কিংবা অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানের মাধ্যমেই একটি সার্থক রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালিত হয়। সরকারি কর্মচারীরা যখন জনগণের সেবকের ভূমিকায় নিষ্ঠার সাথে সময়মতো দায়িত্ব পালন করেন তখন রাষ্ট্রের প্রতিটি চাকা সচল হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর এই সময়ানুবর্তিতা ও কর্মস্পৃহা যেন কেবল ভয়ের কারণ না হয়ে বরং দেশপ্রেমের এক নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে প্রতিটি দপ্তরে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের ফাইল যেন লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে আটকে না থাকে এবং প্রতিটি নাগরিক যেন প্রাপ্য সম্মান ও সেবা পান এটিই এখন সময়ের দাবি। নিয়মের প্রতি এই শ্রদ্ধা আর দায়িত্বের প্রতি এই একাগ্রতাই পারে একটি গতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যেখানে প্রতিটি ক্ষণ হবে জাতির কল্যাণে নিবেদিত। মানুষের শেষ ভরসার স্থল সরকারি দপ্তরগুলো যেন সেবার আলোয় ভাস্বর হয়ে ওঠে এই প্রত্যাশায় আজ বুক বেঁধেছে সাধারণ মানুষ।