পুলিশের পোশাক পরিবর্তন ও নতুন জনবল নিয়োগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সাতাশ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেন। পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পোশাক পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবনা থাকলেও মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে বর্তমানে পুলিশের জনবল বৃদ্ধির লক্ষে নিরলস কাজ চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ামাত্রই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও দশ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করা হবে। এটি বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে পুলিশ সার্জেন্টের একশত আশিটি শূন্যপদে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যথাযথ ও স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে সাব ইন্সপেক্টর বা এসআই এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এএসপি নিয়োগের প্রক্রিয়াগুলোও পাইপলাইনে রয়েছে যা যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলা নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের অন্যতম প্রধান শর্ত। যখন মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন প্রাণশক্তি বাহিনীতে যুক্ত হয় তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ আরও প্রশস্ত হয়। পুলিশের বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়েও তাদের সেবা প্রদানের মানসিকতা এবং পেশাদারিত্বই জনগণের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক যেন আইনি সুরক্ষা পান এবং অপরাধমুক্ত একটি পরিবেশ বজায় থাকে এটিই এখন সময়ের দাবি। সাহসিকতা আর সততার সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন জনবল আগামীতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে পুলিশ বাহিনী সর্বদা জনগণের পাশে থাকবে এই অঙ্গীকারই হোক আগামীর পাথেয়।