জৈন্তাপুরে দুই মন্ত্রীর মতবিনিময় ১৮০ দিনে দৃশ্যমান হবে খাল খনন কর্মসূচি
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার পর্যটন ও কৃষি খাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার করেছেন সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী। ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জৈন্তাপুরের সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট ডিবির হাওর লাল শাপলা বিলের আধুনিকায়নে ক্যাফেটেরিয়া শৌচাগার পার্কিং রেস্টহাউজ এবং ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই অঞ্চলের কৃষি সমৃদ্ধি অর্জনে অন্তত সাত থেকে আটটি জনগুরুত্বপূর্ণ খাল খনন করা হবে। জৈন্তাপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি তাঁর ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ঘোষণা করেন যে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশব্যাপী খাল ও জলাশয় খনন কর্মসূচি দৃশ্যমান হবে। তিনি বলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচিকে বর্তমান সরকার সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে কেবল কৃষি সম্প্রসারণই হবে না বরং পাহাড়ি ঢল ও বন্যা প্রতিরোধেও খননকৃত খালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
মতবিনিময় সভার আগে মন্ত্রীদ্বয় বিভিন্ন এলাকায় চলমান খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন। অনুষ্ঠান শেষে চা শ্রমিক ও কৃষাণীদের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢেউটিন এবং কর্মজীবী মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সরকারের এই উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনবান্ধব কর্মসূচি তৃণমূল মানুষের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। কৃষি ও পর্যটনের মেলবন্ধনে জৈন্তাপুরের সীমান্ত জনপদ যেন একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তরিত হয় এটিই এখন স্থানীয় মানুষের প্রাণের দাবি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর মেহনতি মানুষের শ্রম যখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায় তখনই একটি অঞ্চলের প্রকৃত চিত্র বদলে যায়। এই সমন্বিত উন্নয়ন যাত্রায় প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। মানুষের প্রতিটি অভাব অভিযোগ যেন সরকারি সেবার আলোয় নিরসন হয় এটাই হোক আগামীর অঙ্গীকার।