ঋণের বোঝা বইবার চেয়ে লোডশেডিংয়ের কষ্ট সহ্য করাও ভালো বিদ্যুৎমন্ত্রী
দেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি এবং বিশাল অংকের ঋণের বোঝা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি মন্তব্য করেছেন যে ঋণে নিমজ্জিত থাকার চেয়ে কিছুটা কষ্ট করে থাকা জাতির জন্য মঙ্গলের। পহেলা মার্চ বিকেলে সচিবালয়ে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের নবগঠিত নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন যে অতীতে লোডশেডিং থাকলেও জাতির কাঁধে ঋণের পাহাড় ছিল না কিন্তু বর্তমানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আড়ালে বিশাল দায় সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের ভয়াবহ আর্থিক চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবির কাছে বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির পাওনার পরিমাণ বর্তমানে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ আরও ৩০ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ৭৬ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বকেয়া ও লোকসানের বোঝা নিয়ে তিনি অর্থ উপদেষ্টা ড রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে এই বিশাল অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন যে জ্বালানি সরবরাহের সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে ফলে অনেক কেন্দ্র বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। গত ১৯ বছরে বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লস বৃদ্ধি পেয়ে ৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে যা লোকসানের অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি এই সিস্টেম লস প্রাথমিকভাবে ৫ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যথায় আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সরকার বর্তমানে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সাথে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়গুলো পুনর্মূল্যায়নের কথা ভাবছে যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে লোকসান কমিয়ে আনা যায়। জাতীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য। দুর্নীতি আর অপচয় রোধের মাধ্যমে একটি টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর ঋণের বোঝা লাঘব হবে। প্রতিটি গ্রাহক যেন সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পান এবং দেশের অর্থনীতি যেন সচল থাকে সেই লক্ষে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অন্ধকারের ছায়া কাটিয়ে আলোর পথে যাত্রা শুরু হোক এবং একটি স্বনির্ভর ও ঋণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠুক এটিই আজ সময়ের প্রত্যাশা। মানুষের কষ্ট যেন বিফলে না যায় এবং প্রতিটি পাইপয়সার হিসাব যেন জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়।