ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েতে নিহত ১ ও আহত ৩২ জন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এবার আক্রান্ত হয়েছে কুয়েত। ২ মার্চ সোমবার কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে এই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের শুরু করা ব্যাপক পাল্টা আক্রমণের প্রেক্ষাপটে এই হতাহতের ঘটনা ঘটল।
কুয়েত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আহত ৩২ জনকেই তাৎক্ষণিকভাবে আল আদান হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তদের সবাই বিদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য তাদের জাবের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ১৭ জন আল আদান হাসপাতালেই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং সেখানে ইতোমধ্যে পাঁচজনের জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। হামলায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে কুয়েত সরকার।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডা আবদুল্লাহ আল সানাদ জানিয়েছেন যে আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমসহ বুক মাথা ও পেটে প্রচণ্ড আঘাত রয়েছে। এছাড়া অনেকের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাদের বিশেষ মেডিকেল প্রটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুয়েতের সকল সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করেছে দেশটি।
যুদ্ধের এই লেলিহান শিখা যখন নির্দোষ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় তখন মানবিকতা এক চরম সংকটের মুখে পড়ে। নিজ দেশ ছেড়ে দূর প্রবাসে জীবিকার সন্ধানে আসা নিরপরাধ শ্রমিকদের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা বিশ্ব বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছে। কামানের গোলা আর ক্ষেপণাস্ত্রের আস্ফালন কোনো সমস্যার সমাধান নয় বরং এটি কেবল বিভীষিকা আর হাহাকার বয়ে আনে। ক্ষমতার এই লড়াই যেন আর কোনো সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে না নেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে দ্রুত শান্তির সুবাতাস ফিরে আসে এটিই এখন বিশ্ববাসীর প্রার্থনা। প্রতিটি প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতারা যেন কঠোর সামরিক অবস্থানের বদলে আলোচনার টেবিলে সমঝোতার পথ বেছে নেন। মানুষের রক্তে যেন আর কোনো জনপদ ভিজে না ওঠে এই প্রত্যাশায় আজ উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছে পুরো পৃথিবী।