তেহরানের প্রশাসনিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলার ভিডিও প্রকাশ
ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দেশটির প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে চালানো বড় ধরনের বিমান হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ। ২ মার্চ সোমবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে যে আইডিএফ এই অভিযানকে ইরানি শাসকদের সদরদপ্তরে পরিচালিত হামলা হিসেবে দাবি করেছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক এলাকায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুটি বড় ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
এর আগে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে তারা তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে ব্যাপক আকারে বিমান হামলা পরিচালনা করছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে তেহরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সৈয়দ খন্দান কাসর চৌরাস্তা ভানাক স্কয়ার এবং মোতাহারি স্ট্রিটে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই এলাকাগুলো ইরানের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত। জনবহুল এই এলাকাগুলোতে হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান ও ইসরায়েলের এই সরাসরি সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আর ধ্বংসলীলার দৃশ্য এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ভবনগুলো লক্ষ্য করে চালানো এই হামলাকে যুদ্ধের এক নতুন ও ভয়াবহ ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বারুদের গন্ধ আর ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন যখন একটি জনপদকে গ্রাস করে তখন সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়ে। আধুনিক মারণাস্ত্রের এই লড়াই কেবল ইট পাথরের দেয়ালই ধ্বংস করে না বরং তা অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। আমরা আশা করি ক্ষমতার এই উন্মাদনা থামিয়ে বিশ্বনেতারা আলোচনার টেবিলে সমঝোতার পথ খুঁজে নেবেন। একটি শান্তিময় পৃথিবীর প্রত্যাশায় আজ প্রতিটি মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যেখানে রক্তের বদলে সম্প্রীতি আর ধ্বংসের বদলে গড়ার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রতিটি প্রাণের নিরাপত্তা যেন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে এটিই হোক সবার অন্তিম প্রার্থনা।