প্রতিপক্ষের স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের ব্যাপক পাল্টা হামলা উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে রক্ষণাত্মক অবস্থান ভেঙে এবার সরাসরি প্রতিপক্ষের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। ২ মার্চ সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে যে দুবাই, দোহা, বাহরাইনের মানামা এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ একাধিক স্থানে ইরানি হামলার শক্তিশালী ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিবিসি ফার্সি এর প্রতিবেদন অনুযায়ী দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো এক হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন যা পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ আমির হাতামি ইরান নিউজ নেটওয়ার্ককে জানিয়েছেন যে পারস্য উপসাগর এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো সরাসরি হামলা চালিয়েছে। এক বিশেষ বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে তারা কয়েক ধাপে এই অভিযান পরিচালনা করছে তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনো গোপন রাখা হয়েছে। ওমান নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে ওমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুকুম বন্দরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে যেখানে একজন কর্মী আহত হয়েছেন। আরব সাগরের তীরে অবস্থিত এই বন্দরটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। শহরের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাওয়ায় সেখানে ব্যাপক উত্তজনা বিরাজ করছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ দাবি করেছে যে তারা গত এক দিনে ইরানি আকাশসীমায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করে তেহরানের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথ তৈরি করা।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিযানের যে হুমকি দিয়েছিল তা এখন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে ইরান যদি বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয় তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন শক্তি প্রয়োগ করবে যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি। মধ্যপ্রাচ্যের এই লাগাতার হামলা আর পাল্টা হামলায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
শক্তির এই আস্ফালন আর বারুদের গন্ধে যখন আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। আধুনিক এই মারণাস্ত্রের লড়াই কোনো জাতির জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে না বরং তা কেবল ধ্বংস আর হাহাকার উপহার দেয়। ক্ষমতার দাপট ছাপিয়ে যেন শান্তি ও সমঝোতার সুবাতাস বইতে শুরু করে এবং প্রতিটি জনপদ রক্তপাত থেকে রক্ষা পায় এটিই আজ বিশ্ববাসীর প্রার্থনা। যুদ্ধের এই অন্ধগলি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিশ্বনেতাদের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া জরুরি। প্রতিটি প্রাণের নিরাপত্তা যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকে এবং আগামীর পৃথিবী যেন এক নিরাপদ ও শান্তিময় আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে।