খামেনি হত্যার তীব্র নিন্দা ভারতের প্রধান বিরোধী দলের মোদি সরকারের নীরবতা
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় কংগ্রেস। ২ মার্চ সোমবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে এই হামলাকে কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে দলটি এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
কংগ্রেসের ওই বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাকে এভাবে সামরিক লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যা করা বিশ্বশান্তির জন্য এক অশনিসংকেত। এমন হঠকারী পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও ভয়াবহ সংকটে ঠেলে দেবে এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিতে পারে বলে দলটি সতর্কবার্তা দিয়েছে। মূলত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের দীর্ঘদিনের জোটনিরপেক্ষ অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কংগ্রেস এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছে।
অন্যদিকে এই স্পর্শকাতর ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করায় রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও খামেনির মৃত্যুর বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে। উল্লেখ্য যে ভারত ঐতিহাসিকভাবেই ইরানের সাথে অত্যন্ত সুসম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানি ও চাবাহার বন্দরের মতো বিশাল কৌশলগত প্রকল্পে দুই দেশের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা ভারতের বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সাথে সরাসরি জড়িত।
শক্তির দাপটে যখন কূটনৈতিক শিষ্টাচার ধুলোয় মিশে যায় তখন মানবিকতা এক চরম সংকটের সম্মুখীন হয়। বন্ধুপ্রতীম একটি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন আকস্মিক ও বিয়োগান্তক বিদায় কেবল রাজনৈতিক ক্ষতি নয় বরং এটি এক গভীর মানবিক বিপর্যয়। আমরা আশা করি বিশ্বনেতারা প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে উঠে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান খুঁজে নেবেন এবং প্রতিটি প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। রক্তের বদলে ভ্রাতৃত্ব আর ধ্বংসের বদলে সম্প্রীতির এই সুবাতাস যেন প্রতিটি জনপদে ছড়িয়ে পড়ে এটিই আজ বিশ্ববাসীর প্রার্থনা। শান্তিময় এক আগামীর প্রত্যাশায় আমরা সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ হই এবং মানবতার জয়গান গাই।