কৃষির উন্নয়নেই নিহিত দেশের সমৃদ্ধি দ্রুত চালু হচ্ছে ডিজিটাল কৃষি কার্ড
খাদ্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন যে কৃষির সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত হলেই কেবল দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। ২ মার্চ সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক এক বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে আমাদের দেশের প্রায় সত্তর থেকে আশি শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল এবং বর্তমান সরকার এই খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত ও সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরির লক্ষ্যে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিজিটাল কৃষি কার্ড চালু করা হবে বলে মন্ত্রী ঘোষণা দেন। তিনি জানান যে এই কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। পশুখাদ্যের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মাঠ পর্যায় থেকে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধানের নির্দেশ দেন যাতে খামারিরা ন্যায্য মূল্যে খাবার সংগ্রহ করে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনতে পারেন। দেশের বরেণ্য কৃষি সংগঠক ড আখতার হামিদ খানের আধুনিক কৃষি দর্শনের কথা স্মরণ করে তিনি বাংলাদেশের কৃষিকে বিশ্বমানের করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান যে ক্ষুদ্র কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে সরকার ইতোমধ্যে দশ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এছাড়া কৃষকদের দোরগোড়ায় প্রাণিচিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ে ৪৭৫টি মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক বা এমভিসি চালু করা হয়েছে। কর্মশালায় আরও জানানো হয় যে এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় খামারিদের প্রশিক্ষণ ও কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং দেশের ১৩টি জেলা শহরে আধুনিক মানের কসাইখানা নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আমিষ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আধুনিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।
কৃষি হলো আমাদের অর্থনীতির প্রাণস্পন্দন আর কৃষক হলো সেই স্পন্দনের কারিগর। মাটির মায়ায় যারা রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের অন্নের জোগান দেন তাদের মুখে হাসি ফুটলেই সার্থক হবে সকল উন্নয়ন। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আদিম এই পেশা যখন আধুনিকতার রূপ পায় তখন তা কেবল ফসল নয় বরং এক স্বাবলম্বী জাতির স্বপ্ন বুনে দেয়। আমরা আশা করি সরকারের এই জনবান্ধব উদ্যোগগুলো প্রতিটি কৃষকের আঙিনায় সমৃদ্ধি বয়ে আনবে এবং বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বিশ্বের বুকে এক আদর্শ কৃষিপ্রধান রাষ্ট্র। মেহনতী মানুষের ঘামে ভেজা এই মাটি যেন সর্বদা শস্য শ্যামলা থাকে এবং প্রতিটি ঘরে অভাবের বদলে অঢেল প্রাচুর্য বিরাজ করে এটিই আজ আমাদের পরম প্রার্থনা।