শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা বিচার দ্রুত করতে আদালত বদলি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে যে মামলার নথিপত্র ইতোমধ্যে নতুন আদালতে পৌঁছেছে এবং বিচারক মো সাব্বির ফয়েজ আগামী ৯ মার্চ আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন। আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় মামলাটি বিশেষ জজ আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্ত বিচারিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায় যে গত বছরের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো এনামুল হক শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৪ আগস্ট আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়া গত ১১ সেপ্টেম্বর আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয় এবং পলাতক ২৫৬ জনকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ড রাব্বী আলমের নেতৃত্বে আয়োজিত জয় বাংলা ব্রিগেডের একটি ভার্চুয়াল সভায় শেখ হাসিনাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে যে ওই সভায় শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাতের নির্দেশ সংবলিত দেশবিরোধী বক্তব্য প্রদান করেন যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেই মূলত এই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
আইনের শাসন আর ন্যায়বিচারের পথ যখন সুগম হয় তখন একটি জাতির গণতান্ত্রিক ভিত্তি আরও মজবুত হয়। প্রতিটি নাগরিকের কর্মকাণ্ড যখন সংবিধান ও আইনের কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয় তখনই রাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়। আমরা আশা করি আদালতের এই স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। প্রতিহিংসা নয় বরং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই প্রতিটি সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক এবং আগামীর বাংলাদেশ হোক প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ ও শান্তিময়। সত্যের জয়গান গেয়ে প্রতিটি জনপদ যেন ইনসাফ আর সম্প্রীতির আলোয় আলোকিত হয় এটিই আজ সময়ের দাবি।উপজেলা কোতোয়ালি