ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সাথে বিশেষ মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২ মার্চ সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান যে ঢাকা শহরকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কারকে সরকারপ্রধান অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) খ্যাতনামা পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ঢাকার বর্তমান ট্রাফিক পরিস্থিতি উত্তরণে সুনির্দিষ্ট মতামত ও কারিগরি পরামর্শ জানতে চান। বৈঠক শেষে অধ্যাপক শামসুল হক জানান যে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যুৎচালিত বাস সার্ভিস এবং প্রয়োজনে নারী চালক নিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল চালুর বিষয়েও তাঁর আগ্রহের কথা জানান।
সচিবালয়ে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলের সংস্কার ও স্থাপত্য উন্নয়নের বিষয়ে স্থপতিদের সাথে কথা বলেন। তিনি এই উন্নয়ন কাজগুলো আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এদিন সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে সচিবালয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী এবং দিনভর দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সাথে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সাথে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণ ও পুনর্বাসনের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরিদপ্তর’ গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাসিক ভাতা ও সঞ্চয়পত্র প্রদানের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
একটি আধুনিক ও যানজটমুক্ত রাজধানী গড়ার এই সময়োপযোগী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। প্রতিদিনের কর্মঘণ্টা অপচয় রোধ এবং জনভোগান্তি কমাতে বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সুচিন্তিত মতামত গ্রহণ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বের পরিচয় দেয়। আমরা আশা করি এই পরিকল্পনাগুলো কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা ফিরে পাবে তার হারানো সৌন্দর্য ও গতিময়তা। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশ এক নতুন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক এটিই আজ আমাদের পরম প্রত্যাশা। মেহনতী মানুষের প্রতিদিনের সংগ্রাম যেন সহজ হয় এবং একটি সুন্দর আগামীর পথে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।